পৃথিবীর কেন্দ্র মধ্যকার্ষণ শক্তি শূণ্যঃ সফলতাই সফলতার বাধা

তখন নবম শ্রেনীর ছাত্র আমি। বিজ্ঞান স্যার পড়াচ্ছেন- "ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যত উপরে যাবে মাধ্যকার্ষণ শক্তি তত কমবে। এক সময় মহাকাশে গেলে তা শূণ্য হয়ে যাবে। আবার পৃথবীর কেন্দ্রে মাধ্যকর্ষণ বল শূণ্য।" প্রথম কথাটা ভাল লাগছিল যে দূরে গেলে আকর্ষন কমে যায় কিন্তু পরের কথাটাই বুঝতে পারলাম না। যত কাছে আসবো ততই আকর্ষণ বাড়ার কথা। অথচ কেন্দ্রে শূণ্য? পড়ে বেপারটা নিয়ে ভাবলাম যে বস্তুটি কেন্দ্রে আসতে চেয়েছিল এখন কেন্দ্র এসে গেছে, তাই তার আর কোন দিকে যাওয়ার প্রয়োজন নাই তাই সে শূণ্য আকর্ষণ নিয়ে থেমে আছে। (যদিও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটা হলোঃ দুটি বস্তুর মধ্যকার বল, ভরের গুণফলের সমানুপাতিক ও দূরত্বের বর্গে ব্যাস্তানুপাতিক, যেহেতু কেন্দ্র ভর ও দূরত্ব শূন্য তাই ফলাফল শূণ্য)

যারা মার্কেটিং এর সাথে জরিত তারা বেপারটা বুঝতে পারেন যে, যখন কোন কাজের টারগেট দেওয়া হয় ও সেই অনুযায়ী কাজ হয়ে যায় তখন নিজেকে অনেকটা সফল মনে হয়। আর এই সফলতার কারনে টারগেট পূরণ করে অনেকে কাজ থামিয়ে দেয়। কারন এর চেয়ে বেশি কাজ করলে কোন লাভ হবে না।

পড়ালেখাঃ

ওয়েব জগতে অনেকে দিন নাই রাত নাই কাজ করতে করতে অস্থির। সফলতার মুখ দেখেন না। অনেক ব্লগারকে দেখেছি যারা পরিশ্রম অনেক বেশি করছেন কিন্তু ফলাফল অনেক সামান্যই পেয়েছেন। ইদানিং বেশ কিছু ফেসবুক বন্ধু অনলাইনে আয়ের বেপারে ব্যাপক আগ্রহ ও সময় দিচ্ছেন। বেশ কয়েকজন আবার ফ্রিল্যান্সিং এ মোটা টাকা আয় করার প্রত্যয়ে বসে আছে-যদিও সে স্কুলে পড়ে।
পড়ালেখা

স্কুল ছাত্র যে পারবে না-তা অবশ্য বলছি না। তবে অধিকাংশদের দেখেছি। নিজেই জানে না অনেক কিছু, নিজের সাইটের প্যাজ র‌্যাংক শূণ্য, নিজের সাইটের ডিজাইনে রয়েছে নানান ভুল আথচ টিউটরিয়াল টাইপের, আদেশ উপদেশ টাইপের, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ব্লগ লিখেন। সফল না হওয়ার পেছনে অনেকে অনেক কথা বলেছেন কিন্তু আমি একটা কথা বলতে শুনি নি তা হলো-"পড়া লেখা না করা"। সারাদিন সামাজিক নেটওয়ার্কে সময় কাটিয়ে বিভিন্ন লোকের সাথে চ্যাটিং না করে ও বিজ্ঞজনদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন না করে এক একটা করে বিষয় ধরে ধরে ওয়েবে সার্চ দিয়ে সেই বিষয়ে পড়া লেখা করলে অনেক এগিয়ে যাওয়া যায়। অধিকাংশ টেক পাগল ছেলেরা বুঝতে পারে না যে কোথা থেকে শুরু করবে...কোন দিক দিয়ে শেষ করবে। এক ছেলে এক দিন বললো যে, "ওই ওয়েসাইটে ওই জিনিসটা কিভাবে যুক্ত করলো?" আমি জিজ্ঞাস করলাম এইচটিএমএল জানো? সিএসএস জানো? জাভাস্ক্রিপ্ট জানো? তিনটা প্রশ্নের উত্তরই "না"। তাহলে কিভাবে তাকে বুঝাবো? তকে বললাম, আগে এইচটিএমএল শিখো।

বিষয় নির্ধারণঃ

বিষয় নির্ধারণ
ব্লগ লিখছি..ভিজিটর নেই, কেউ লেখা পড়ে না। এরকম অনেক কথাই শোনা যায়। অধিকাংশদের সাইটে গিয়ে দেখা যায়, নাম মাত্র কয়েকটা শব্দের পোষ্ট, সার্চ ইঞ্জিন এগুলোকে গনায় ধরে না, ভিজিটর তো দূরের কথা। যে বিষয়ে হাজার হাজার বার লেখা হয়ে গেছে সেই বিষয়টি বাছাই করে লেখা শুরু করেছে। সার্চ ইঞ্জিন কি করে চিনবে তাকে? আমি নতুন ব্লগারদের উদ্দেশ্যে বলবো যে, তারা যেন টেকি বিষয় নিয়ে ব্লগ না বানায়। তারা তো কেবল শিখছে। এখন কথা হলো-কি বিষয়ে ব্লগ বানাবে? যারা একবারে নতুন তাদের লেখার চেয়ে পড়তে হবে বেশি। আমি টেকি বিষয়ে ইংরেজী ব্লগ লিখে এ পর্যন্ত সফলতা পাই নাই। IELTS ও TOEFL এর উপরে দুটি ব্লগ থেকে নিয়মিত আয় হয়। কারন টেকি বিষয়ে লেখ আনেক বেশি পাঠক কম। আর অণ্য সব পেশার মানুষ ব্লগ বানাতে পারে না, অথচ মানুষ সেই সব প্রয়োজনীয় বিষয়ে লোকজন সার্চ দেয় আনেক। কয়জন এমবিবিএস ডাক্তার ব্লগ লিখেন? কিন্তু মানুষের যে কোন আসুখ বিসুখেই সে একজন ভাল পরামর্শ চায়, ওয়েবে সার্চ দেয়। আমি হলফ করে বলতে পারি যে সাস্থ্য বিষয়ে ব্লগ ব্যাপক জনপ্রিয় হবে।অনেকেই বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার জন্য ব্লগ বানায় নাই, কারন অল্প কয়েকদিনের জন্য ব্লগ বানিয়ে কি লাভ? আমি বিশ্বকাপের উপরে কয়েকটি পোষ্ট লিখে এক মাসে ৮০০০ ইউনিক ভিজিটর পেয়েছিলাম।

লক্ষ্য পরিবর্তনঃ

লক্ষ্য পরিবর্ত
ফিরে এলাম আগের কথায়। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারাণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আর সেই দিকে এগিয়ে যেতে হবে। নিজে এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে লক্ষ্যবস্তুটাকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তা না হলে টারগেট পূরণ হওয়াতে কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। যদিও আপাতঃ দৃষ্টিতে আপনার কাছে এগিয়ে যাচ্ছেন বলে মনে হবে..আসলে তা নয়। লক্ষ্যতে না পৌছলে হয়তো বা আরো বেশি কাজ হতো..সেইভাবে এগিয়ে যেতে হবে। থেমে যাওয়া যাবে না।

বেশ কয়েকটি ব্লগের ব্যাপক ভিজিটর পাওয়ার পরে নিষ্ক্রিয় অবস্থানটা আমাকে মনে করিয়ে দিল যে সফলতাই সফলতার বাধা

আরও পড়ুনঃ

সৃষ্টিশীলতা বনাম মার্কেটিং: দুই প্রান্তের কাজ

শুনেছি মানুষ সামাজিক জীব,সেই সাথে ব্লগও কি

অনুবাদ পোস্ট করার ক্ষেত্রে ১০টি কথা

“ব্লগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করা উচিৎ”- কেন?

2 thoughts on “পৃথিবীর কেন্দ্র মধ্যকার্ষণ শক্তি শূণ্যঃ সফলতাই সফলতার বাধা”

  1. আমার মনে হয় ব্লগিংটা সবার জন্য নয় আর বুঝিয়ে লেখার ব্যাপার এখানে আছে। আমি নিজে ঠিক ভাবে লিখতে পারিনা। তবুও টেকি বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখি কারণ এই “পোষ্ট লেখা” শেখার পদ্ধতিটা, আমার জন্য এক প্রকার শিক্ষার অংশ। হয়তো বা আর ৫ বছর পর আমি ঠিক ভাবে ব্লগ লেখা শিখতে পারবো!
    “নিজেই জানে না অনেক কিছু” এটা আমিও দেখিছি এখনও গুগুল এডসেন্স পায় নাই আর ব্লগ লিখে কি ভাবে ব্লগিং করে আয় করতে হয়। আর খুব সাধারণ বিষয় গুলো জানে না বা জানার চেষ্টা করে না। SE থেকে কিভবে ভিজিটর আসবে এটা কখনও ভাবে না, ভাবে কি ভাবে অন্যের ব্লগে মন্তব্য করে (spam করে) ভিজিটর আনা যাবে সেটা সব সময় ভাবে। আপনি কি বলেন?

  2. আচ্ছা ছাত্রদের জন্য আপনি একটা ফোরাম না ব্লগ করেছিলেন বেশ কিছু দিন আগে দেখেছিলাম ঐটা কি বন্ধ করে দিয়েছেন?

Leave a Comment