হয়ে যান অনলাইন সেলিব্রেটি

বিখ্যাত হওয়ার আকাংক্ষা অনেকের মনেই উকি দেয়। অনেকের এ ইচ্ছাটা অনেক প্রবলভাবে কাজ করে। বেশ কিছু শিশুদের দেখেছি যারা টিভি দেখে দেখে নিজেরাও নায়ক নায়িকা, গায়ক গায়িকা ইত্যাদি হতে চান। আনলাইনে পরিচিত মুখ হওয়ার আকাংখাও অনেকের। ( আমি যদিও ব্লগিং করার প্রথম দু'বছর আমি আমার পরিচয় প্রকাশ করি নি। নিজের ছবি বা নাম প্রকাশ করি নি) আর অনলাইনে  সেলিব্রেটি হওয়াটা যত সহজ অতটা অন্য কোন মাধ্যমে সহজ নয় বলে আমি মনে করি যদিও অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে।

এখন কথা হলো, অনেকে সেলিব্রেটি হওয়াকে অপছন্দ করে। সেলিব্রেটি ব্লগারদের উদ্দেশ্য করে অনেকে কয়েকটা পোষ্টও দিয়েছে। কিন্তু এটাও একটা টাকা আয়ের উৎস হতে পারে-তা কি জানেন? অনলাইনের পরিচয়ের সুবাদে অনেকে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছেন। আবার অনেকে নিজের একটি টিম গঠন করে কাজ করে যাচ্ছেন।  কারন অনলাইনে পরিচয় হতে হতে এক সময় আপনার কিছু ভক্তগোষ্ঠী তৈরী হয়ে যেতে পারে যারা আপনার সেবা বা পণ্য(যদি থাকে) গ্রহন করতে পারে। এ জন্য পরিচিতির প্রয়োজনে বেশ কিছু ধাপ আবলম্বন করতে পারেন।

বিখ্যাত হওয়া প্রয়োজন কেন?

বিখ্যাত হওয়ার হাজারো অপ্রয়োজনীয় দিক থাকলেও প্রয়োজনীয় দিকেরও অভাব নেই। অনলাইনে অধিকাংশ লোক নিজের অবস্থান শক্ত করে ফেলে হাসতে হাসতে , বুঝতে ও না বুঝতে, নিজের ভাব প্রকাশ করতে করতে, আড্ডা ও গল্পে গল্পে। অনেকে নিজের অফলাইন ও অনলাইন ব্যাবসা ও ব্র্যান্ড গঠনের প্রয়োজনে বিখ্যাত হতে চায়।

আমি মনে করি সবার মাঝে নিজেকে অন্যতম করে তোলার আলাদা একটা স্বাদ আছে।

নিজেকে বিখ্যাত করা একেবারে সহজ কর্ম নয়- তবে প্রাথমিক কিছু কিছু কাজ করে গেলে পথটা সহজ হতে পারে। যারা নিজেকে বিখ্যাত করতে না চান- যারা নিজেকে প্রকাশ করতে না চান তারা অবশ্য এসব থেকে দূরে থাকতে পারেন।

ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য:

অনলাইনে আপনার পরিচয়ের প্রথম পদ্ক্ষেপ হিসেবে নিজের ছবি প্রকাশ করতে দ্বিধা করবেন না। শুধু একটি নয় বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন পরিবেশর ছবি এলবামগুলোও প্রকাশ করতে পারেন। আর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করলে অনেকে আপনার সম্পর্কে জানবে না বা মনে রাখবে না। সঠিক নাম , জন্ম তারিখ, জন্মস্থান, এখন কি করছেন ইত্যাদি মানুষের চোঁখের সামনে থাকলে অনলাইনের সবাই আপনার সম্পর্কে জানতে পারবে আর যতটা জানবে ততটাই মনে রাখা সহজ হবে। আপনি যদি চান এর মধ্যে কিছু কিছু তথ্য গোপন রাখতে তাহলেও সমস্যা নেই। একটা জিনিস মনে রাখবেন, পৃথিবী দিন দিন উম্মুক্ত হচ্ছে।

জিন্নাতুল হাসান
পোর্স্টমাউথে সমুদ্রের পাশে শ্রদ্ধেয় জিন্নাতুল হাসান

কোন একটি বিষয়ে নিজের পারদর্শিতার প্রকাশ করুন। হ-জ-ব-র-ল জিনিস নিয়ে নিজের যোগ্যতা দেখানোর দরকার নেই। একজন লোক আপনার কর্মের দ্বারাই আপনাকে মনে রাখবে।

অনলাইন সামাজিক গণমাধ্যমঃ

এক এক জন লোক আনলাইনের এক এক জায়গায় আড্ডা দেয়। তাদের সবার সাথে থাকতে চাইলে সব জায়গাতেই আপনাকে অংশগ্রহণ করতে হবে। তাই সামাজিক মাধ্যমে নিজেকে প্রকাশ করুন।

১. ব্লগ ও ফোরামঃ ব্লগ বা ফোরামে অংশগ্রহণটা অনলাইনে পরিচিতির প্রধান মাধ্যম। ব্লগে নিজের কথা আড্ডা, আলোচনার আগে আন্যের সাথে জানাজানি হয়।

২. মাইক্রো ব্লগঃ মাইক্রোব্লগে প্রতি মূহূর্তের নিজের খবরাখবর জানানোর সহজ মাধ্যম। তাই মাইক্রো ব্লগে অংশ গ্রহণ করুন।

৩. মাল্টিমিডিয়াঃ নিজের ভিডিওগুলোকে আপলোড করে ইউটিউব জাতীয় সাইটে প্রকাশ করতে পারেন।

৪. সামাজিক নেটওয়ার্কঃ বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে অংশ গ্রহণ করুন। ইদানিং অনেকে অনলাইন থেকে অফলাইনে বিভিন্ন আয়োজন করে থাকেন সেখানেও নিজের স্বাক্ষর, মতামত দিন।

আরও কিছু টিপসঃ

  • ১. নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন। অনলাইনে নিজের ভাবমুর্তি নষ্ট করবেন না।
  • ২. আপনার নেটওয়ার্কের লোকজনের সাথে চ্যাটিং করুন। পরিচয় আদান প্রদান করলে আপনাকে মনে রাখবে...।
  • ৩. ধর্য্য ধারণ করুন। অনেকের সাথে আজে বাজে আলাপ থেকে নিজেকে উদ্ধার করে রাখুন।
  • ৪. ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনলাইনে থাকুন ও স্ট্যাটাস আপডেট করুন।

টেকটিউনসের টিউনার আড্ডায় আমিও ছিলাম। ভিডিওটা দেখুনঃ

অনেকে বিখ্যাত হতে চায় না, আন্তরালে থেকে সবাইকে সেবা দিয়ে যায়। সেই সব নিবেদিত প্রানকে আমার অন্তর থেকে শ্রদ্ধা জানাই।

11 thoughts on “হয়ে যান অনলাইন সেলিব্রেটি”

  1. @ তাওহীদুল ইসলামঃ বড় হতে হলে কাজে বড় হতে হবে। আনলাইনে অবশ্য ঘরে বসেই বিখ্যাত হওয়ার সুযোগ আছে, অবশ্য অনেক কাজ এ জন্য করতে হয়, সময় দিতে হয়।

  2. জানি না আমি কোন দলে , তবে কারো উপকার করতে না পারলেও ক্ষতি করি না । এক গুচ্ছ গোলাপের শুভেচ্ছা “টিইটো” ভাইকে এরকম একটি সুন্দর পোষ্ট লেখার জন্য।
    একটা অফ-টপিক ” আমার পুরো নাম তাওহিদুল ইসলাম রাজীব ” এখন আমি বিপদে পড়েছি এই নাম নিয়ে , প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমার নামে কেউ মন্তব্য করে কিন্তু খেয়াল করে দেখেছি নামের লিংকের ঠিকানাটা আলাদা । যাইহউক কিছুদিন আগে সবচেয়ে বাঁজে একটা ঘটনা ঘটেছে আমার প্রিয় একটি ইংলিশ ব্লগে আমি ব্যান হয়েছি , কেন ব্যান হয়েছি তা উৎঘাটন করতে গিয়ে দেখি আমার নামে আমার সাইটের নাম দিয়ে …. আপনারাই বলুন এটাকি ঠিক [বি.দ্র. আমি কিন্তু “তওহীদুল ইসলাম -tohidctg.blogspot.com” ভাই কে উদ্দেশ্যে বলিনি আপনার নামটা দেখে মনে পড়ে গেল]

  3. @আর,এম,২৩৩৪ কেঃ আনন্দের জন্যই অনেকে লেখালেখি ও কাজ করে যায়, অনেকে ঘরের কোন বসে এমন সব কাজ করে ফেলে যে এমনিতেই তার নাম জানাজানি হয় যায়। বেশিভাগ বিজ্ঞানীর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। সেলিব্রেটি হওয়ার জন্য আদা জল খেয়ে না নেমে নিয়মিত কাজ করে যেতে হয়।

    ব্যানের ঘটনাটা অন্য কোন কারনেও হতে পারে। সাধারনতঃ আইপি ও ইউজার আইডি অনুসারে ব্যান করা হয়। আর ইউজার আইডিগুলো ই-মেইল নির্ভর, নাম নির্ভর না।

    আপনার লেখালেখি অনেক কমে গেছে দেখছি। খুব ব্যাস্ত নাকি ?

  4. আমার বয়স এখন ১৩ বছর সামনে কিছু দিন পরে একটা মাসের ২ তারিখে ১৪ বছর হবে। আমি কত বছর বয়স থেকে সেলিব্রেটি হবার চেষ্ট করবো, বলেন তো?!!

  5. শিবলীঃ এ বয়সে সেলিব্রেটি হওয়ার চিন্তায় মাথাটা নষ্ট করো না। এখন পড়ালেখার সময়। পড়ালেখার সাথে সাথে আনলাইনে পড়ালেখা করতে পারো…। যে সব দিকে নিজের আগ্রহ সে দিকে ধিরে ধিরে এগিয়ে যেতে পারো। সেলিব্রেটি হওয়ার চেয়ে ভাল মানুষ হওয়া বেশি কঠিন।

  6. @টিউটো: হা হা টিউটো ভাই আমি সেলিব্রেটি হওয়ার চিন্তা করছি না। আমি বলছি কত বছর বয়সে সেলিব্রেটি হবার চিন্তা করতে হয়।

  7. লেখাটা পড়ে ভাল লাগল । গুগলে ‘ কিভাবে সেলিব্রেটি হওয়া যায় ‘ সার্চ দিলে বেশকিছু ব্লগেই দেখলাম , এবিষয়টা নিয়ে লেখা হয়েছে ।
    স্বভাবত , আমার নিজের এই ইচ্ছাটা আছে তাই খুঁজে দেখা আর কি !
    এবং এটা নিয়েও যে লিখতে পারে সেও একটা ধন্যবাদ প্রাপ্তি আসা করতেই পারে ।

Leave a Comment